বিশ্ববাজারে এলএনজি খাতে আবারো চাপের মুখে পড়েছে এশীয় অঞ্চল। চলতি সপ্তাহে এশিয়ায় এলএনজির স্পট মার্কেটে দাম আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা দুর্বল থাকা, উচ্চ মজুদ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট মন্দার শঙ্কাই এর প্রধান কারণ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় মে মাসে সরবরাহযোগ্য এলএনজির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। জুনের সরবরাহের জন্য দাম আরো কমে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১১ ডলার ৩০ সেন্টে নামার পূর্বাভাস দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক গো কাতায়ামা জাপান ও কোরিয়ায় মজুদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্যাসের মজুদ এরই মধ্যে বেশি। আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা থাকায় চাহিদাও কম। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আর্থিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য নতুন কিছু শুল্ক স্থগিত করলেও পূর্ববর্তী শুল্ক বহাল থাকায় বাজারে স্থায়ী স্বস্তি আসেনি। চীন থেকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চীনা আমদানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা কার্গো ফের বিক্রি করছেন। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক ওয়েই জিওং বলেন, ‘চীনে গ্যাসের চাহিদা যেমন সীমিত, তেমনি উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন করে এলএনজি কেনার আগ্রহ কম।’
তবে ইউরোপে তুলনামূলকভাবে চাহিদা কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে সরবরাহযোগ্য উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে এলএনজির দাম নির্ধারিত হয় প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১০ ডলার ১৩ সেন্ট, যা ডাচ টিটিএফ গ্যাস মূল্যের চেয়ে ৮১ সেন্ট কম। একই দামের কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণ করেছে আরগাস ও স্পার্ক কমোডিটিজ। ইউরোপে দাম অপেক্ষাকৃত বেশি থাকায় সম্প্রতি অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি স্পট কার্গো ফ্রান্সে বিক্রি হয়েছে, যা সাধারণত এশিয়ার দিকে যেত।
এদিকে এলএনজি পরিবহন খাতেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আটলান্টিক অঞ্চলে জাহাজ ভাড়া টানা তৃতীয় সপ্তাহে কমে হয়েছে প্রতিদিন ২২ হাজার ৫০০ ডলার, আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তা নেমেছে ২৪ হাজার ৭৫০ ডলারে। এ ভাড়া কমার পেছনেও চাহিদা কমে যাওয়া একটি কারণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের মাসগুলোয় যদি আবহাওয়া গরম না হয় বা দাম আরো না কমে, তাহলে এশিয়ার দেশগুলো থেকে মজুদ পুনরায় গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাবে না। ফলে বাজার আরো কিছুদিন চাপে থাকতে পারে।
সার্বিকভাবে এলএনজি বাজার বর্তমানে এক জটিল সময় পার করছে। চাহিদার ঘাটতি, গুদামে পণ্য জমে থাকা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও মূল্য প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে দামে পতনের সম্ভাবনা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা, মুদ্রানীতি ও ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলির ওপর।